ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
সময়টা ভীষণ ব্যস্ততার, পরিশ্রমের এবং অপার আনন্দের। উষ্ণ আবহাওয়ায় হরেকরকম প্রাণী শীতের বিষন্নতা কাটিয়ে বসন্ত আর গ্রীষ্মের মাঝামাঝি অবস্থায়। পাখ-পাখির কলতান অল্পবিস্তর শোনা যায়, যদিও নাচের তাল, সুরের রাগ, পরিবেশ কোনটাই তেমন পরিপূর্ণ, মনমাতানো মনে হয়না। সপ্তাহ, দিন দশেক আরও অপেক্ষা করতে ঋতুমতীর অপরূপ বাহারি খেলা দেখার জন্য। তবে মাঠ প্রস্তুত করার সময় এখনই। তাই ব্যস্ততা, আর নিত্য প্রয়োজনীয় রসদ যোগানো, নানান ধরণের পরিকল্পনা।
ফসল বাছাইয়ের কাজ নিতান্ত সহজ নয়। স্বাস্থ্যসম্মত শাকসবজি আবার খেতে সুস্বাদু বিষয় দুটোর সমন্বয় বেশ কঠিন। পরিবারের সদস্যগণ বিভিন্ন বয়সের তাই অনেক কিছুই সমন্বয় করতে হয়। বয়স্ক সদস্যদের কেউ ঝাল মরিচ পছন্দ করেন, কেউ মিষ্টি-ঝাল সুগন্ধি যুক্ত।
কিছু সবজি, যেমন ঢেড়শ, পুঁইশাক, লাউ প্রায় সবাই পছন্দ করে। শশা যা সিজনের শুরুতেই ফলে, তা সবাই পছন্দ করে না। চাইনিজ জাতের শশা ফলে প্রচুর পরিমাণে কিন্তু সব সদস্য সমানভাবে পছন্দ করে এমন নয়। আমি চিংড়ি সহযোগে এ জাতের শশা পছন্দ করি। লাউয়ের ব্যাপারটি তো আরও জটিল। চিকন লম্বা ভ্যারাইটির ফলন বেশি তবে দেশি জাতেরটাই সবাই পছন্দ করে। আমার ব্যাকইয়ার্ডে বাজারের প্রচুর আলগা মাটি মিশিয়ে ও আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায় না।
লম্বা ধরণেরটি তেমন যত্ন ছাড়াই বেশ ভাল ফলন দেয়। সীম, ঝিংগা সব সবজিতেই মাটির ধরণ, লতাপাতা মেলাতে পারার জন্য পর্যাপ্ত সাপোর্টিং জায়গা, উপযোগী সার ইত্যাদি প্রয়োজন পড়ে। জমির আদ্রতা ঠিক রাখার জন্য পরিমিত পানি, আগাছা পরিষ্কার, সূর্যাালোক সবকিছুই খেয়াল রাখতে হয়। কাঠবিড়ালী, খরগোশ, পাখি লং আইল্যান্ড এলাকায় পেছন আঙ্গিনায় যারা শখের সবজি চাষ করেন তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। এদের সাথে মিলেমিশে থাকা এ ঋতুতে কঠিন। ঋতুচক্রের সমীকরণে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে নিশ্চিতভাবে আপনি সফল চাষী নন।
আমার মতো যারা প্রকৃতি প্রেমিক, তাদের জন্য ঋতু পরিবর্তনের এ সময়টি আনন্দের এবং ভীষণ ব্যাস্ততার। গাছের সবুজ পাতা, ডালপালা পাখিও অন্যান্য শাখা প্রাণীদের স্বাগতম জানাতে উন্মুখ এ সময়ে। মৌমাছি ও কীটপতঙ্গ মধু আহরণ এবং পরাগায়ণের জন্য প্রস্তুত। এখানে সেখানে বিচ্ছিন্নভাবে ফুল যে ফুটছে না তা নয়, তবে সবজি বাগানে ফুল ফুটতে এখনও বেশ দেরি। ঋতুচক্রের নিয়মে ঋতুমতী হওয়া চাই প্রতিটি জাতের সবজি রূপে, রসে গন্ধে । এ অবস্থা পরিস্ফুট করতে মেধা, শ্রম, প্রেম-আহ্লাদ চাই নিবিষ্ট চিত্তে পরিপূর্ণ মাত্রায়। তবেই তো ঋতুমতীর পরিতৃপ্ত রতিক্রিয়া হবে, ঢালাও ভাবে সবজি, ফল-ফলাদিতে ভরতে পারা সম্ভব হবে ঢালা।
Posted ১২:৪২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh